নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল নিউজ ২৪x৭,মালদা:
গত ১৩ মার্চ পুরাতন মালদা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল এক যুবককে৷ পরদিন ভোরে মালদা মেডিক্যালে ওই যুবকের মৃত্যু হয়৷ সেই মৃত্যু ঘিরে নতুন করে দেখা দিয়েছে রহস্য৷ মৃতের মায়ের দাবি, একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর তার খুনিরা তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছে৷ ইতিমধ্যে তাঁর কাছ থেকে তারা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ফেলেছে৷ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তাঁকে শাসানো হচ্ছে৷ আজ তিনি গোটা ঘটনা জানিয়ে মালদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷
মৃত ওই যুবকের নাম বিপ্লব মণ্ডল(১৯)৷ পেশায় টোটোচালক৷ বাবা অনন্ত মণ্ডল সবজি বিক্রেতা৷ মা সীমা মণ্ডল সাধারণ গৃহবধূ৷ বাড়ি পুরাতন মালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চিতোরপুরে৷ এক বছর আগে বিয়েও করেছিলেন বিপ্লব৷ গত ১৩ মার্চ সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি৷ আর তিনি ঘরে ফেরেননি৷
সেই দিন রাত্রে রেললাইনের ধার থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রেলপুলিশ৷ তাঁকে ভর্তি করা হয় মালদা মেডিক্যালে৷ সেই দিন ভোরে মারা যান তিনি৷ এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে জানিয়েছিল, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন বিপ্লব৷ যদিও তাঁর বাড়ির লোকজন দাবি করেছিল, দুর্ঘটনা নয়, খুন করা হয়েছে বিপ্লবকে৷
বিপ্লবের মা সীমা মণ্ডল জানান, সম্প্রতি কোর্ট স্টেশন এলাকায় তাঁর সঙ্গে উমেদ আলি নামে একজনের দেখা হয়৷ তার বাড়ি ইংরেজবাজারের মহদিপুরে৷ সে জানায়, বিপ্লবকে তারাই খুন করেছে৷ তার সঙ্গে আরও চারজন৷ সে বলে, তাকে ৫০ হাজার টাকা দিলে সে পুলিশের কাছে সব কথা খুলে বলবে৷ আর টাকা না দিলে সে ও তার লোকজন বিপ্লবের মতো তাঁদেরও খুন করবে৷ গত ৩ মে তিনি উমেদকে ২০ হাজার টাকা দেন৷ পরদিন তিনি ফের তাকে ৩০ হাজার টাকা দেন৷ এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করেন তিনি৷ কিন্তু সেই টাকা পাওয়ার পর ৯ মে উমেদ ফের তাঁকে জানায়, তাকে আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে৷ সে এবার ভয় দেখায়, টাকা না দিলে সে পুলিশের কাছে তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের করে জানাবে, তিনি ৪ জনকে খুন করার জন্য এই টাকা দিয়েছেন৷ তিনি আজ গোটা ঘটনা জানিয়ে মালদা থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন৷
মালদা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি