
লোকসভা ভোটে রাজ্যে ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে জয়ের লক্ষ্যমাত্র বেঁধে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। কিন্তু তা তো হয়ইনি, উলটে গেরুয়া ঝড়ে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে ব্যাপক ভালো ফল করেছে বিজেপি। দক্ষিণবঙ্গেও বেশ কয়েকটি জেতা আসন হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে এতৃণমূলের। লোকসভা ভোটে এমন বিপর্যয় কেন হল? আজ কালীঘাটে দলের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দলের প্রত্যেকের কাছে পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। কিন্তু ওরা চায় আমি থাকি। সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে ভোটে জিতেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশন প্রতিনিয়ত ওদের হয়ে কাজ করেছে। আমাদের আসন সংখ্যা কমলেও ভোটের হার চার শতাংশ বেড়েছে।”এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এ দিন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷
এছাড়া লোকসভা ভোটে খারাপ ফল করার ফলে তৃণমূল সংগঠনে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। জঙ্গলমহলে দায়িত্ব দেওয়া হল শুভেন্দু অধিকারীকে। পাশাপাশি, সরকারি সংগঠনের দায়িত্বেও আনা হল শুভেন্দুকে। ডানা ছাঁটা হল অরূপের। বর্ধমান ও হুগলির দায়িত্বে আনা হল মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। এছাড়া, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার দায়িত্ব থেকে সরানো হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অভিষেক সবার সাথে কো-অর্ডিনেশন করবে। তাই তাঁর দায়িত্ব কমানো হল।
ঝাড়গ্রাম- বীরবাহা সোরেন
দক্ষিণ দিনাজপুর- অর্পিতা ঘোষ
হুগলি- রত্না দে নাগ
মালদা- মৌসম বেনজির নূর
দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে হেরে যাওয়ার পর উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান করা হল অমর সিং রাইকে। HRBC-র চেয়ারম্যান করা হল দীনেশ ত্রিবেদীকে। SJDA-এর চেয়ারম্যান করা হল বিনয় বর্মণকে। দায়িত্ব বাড়ান হল মৌসমের। মালদা জেলার সভাপতি পদ ছাড়াও মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যানও করা হল মৌসমকে।
নদিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে গৌরীশংকর দত্তকে সরিয়ে কৃষ্ণনগরের দায়িত্ব পেলেন মহুয়া মৈত্র। রানাঘাটের দায়িত্ব পেলেন শংকর সিংকে। আসানসোলে হারের পর দায় কাঁধে নিয়ে মেয়রের পর থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁকে আসানসোলের সভাপতি পদের দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।