নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল নিউজ ২৪x৭,ইটাহারঃ
পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে দেওয়ালে ধাক্কা দিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইটাহার থানার উত্তর পাড়া এলাকায়। ঘটনা জানাজানি হতেই মেয়ের বাড়ির লোকেরা ছেলের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ইটাহার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।
পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, আট বছর আগে হরিরামপুর থানার লৌহুচর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আজগর আলীর মেয়ে আয়েষা সিদ্দিকার সংগে বিয়ে হয়েছিল ইটাহারের বাসিন্দা তোফাজ্জল হুসেন এর। দুই শন্তানের সংসারে প্রতিনিয়ত বিবাদ লেগেই থাকত। কারনে অকারনেই শ্বশুড়বাড়িতে টাকা চেয়ে পাঠাত তোফাজ্জল বলে জানা যায়। তোফাজ্জল মালদা জেলার চাঁচোল নৈকান্দা হাইমাদ্রাসা স্কুলে শিক্ষকতা করেন ইংরেজি শিখক। জামাই এর দাবি প্রতিনিয়ত মেটালেও অশান্তি একটুকু কমেনি। বিকালে বাড়ির পরিচারিকা কহিনূর বিবি বাড়িতে এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় তফাজ্জলের স্ত্রী বিছানায় পড়ে আছেন। কারন জানতে চাইলে তফাজ্জল জানায় অশুস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। তারপর পরিবারের লোকেরা তফাজ্জলের স্ত্রী আয়েষা সিদ্দিকিকে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্ত্তি করেন। সেখানেই আয়েষার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যার নাগাদ এই খবর আয়েষার গ্রাম হরিরামপুরের লহুচরের ছড়িয়ে পড়তেই আয়েশার বাপের বাড়ির লোকজন এসে ইটাহারের তোফাজ্জলের উত্তরপাড়ার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয় বাড়ির আসবাব। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে। মৃতার বাবা সৈয়দ আজগর আলী খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক তফাজ্জল হুসেন অনিচ্ছাকৃত খুনের ঘটনা শিকার করে নিজের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আর্জি জানিয়েছে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে ইটাহার থানাই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে জামাই তফাজ্জল হুসেন সহ তার বোন ও বোন জামাই ও অন্য এক আত্মিয়ের বিরুদ্ধে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেয়ের বাড়ির লোক অভিযুক্তকে বেধোরক মারধোর করার ফলে বর্তমানে সে গঙ্গারামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত বাকি তিন জন পলাতক। ইটাহার থানার পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানা যায়।(ছবি আছে)